ব্যাংক আইনের তোয়াক্কা না করে সাবেক আমলা জাকির আহমেদ এর পদ বিলাস

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের রহস্যময় নিষ্ক্রিয়তা ব্যাংকের কোনো আইনের তোয়াক্কা না করেই পদ বিলাসিতা করে যাচ্ছেন সাবেক আমলা জাকির আহমেদ খান। সরকারের অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান একাই দখল করে আছেন অনেকগুলো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পদ। তিনি বিএনপি-জামায়াতের আশীর্বাদপুষ্ট আমলা হিসেবে বিএনপি শাসনামলে সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় বিএনপি জামাত চারদলীয় জোটের বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার কার্যকর ভূমিকা ছিল। ২০০০ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর এনবিআরের চেয়ারম্যান হন জাকির আহমেদ খান। সেই সময়ও তার বিরুদ্ধে বিএনপি জামাত সংশ্লিষ্টতা ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে। আর সেসবের কোনো তদন্ত না করে উল্টো খালেদা-নিজামী সরকার ক্ষমতায় এসে জাকির আহমেদ খানকে পুরস্কৃত করেন। মূলত খালেদা নিজামী জাকির আহমেদ খানকে পুরস্কার হিসেবেই অর্থ মন্ত্রনালয়ের সচিব নিযুক্ত করে। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করে খালেদা নিজামীর পূর্ণ স্বার্থ সংরক্ষণ করেন ও বিপুল পরিমান অবৈধ অর্থবিত্তের মালিক হন। এরপর তিনি বিদেশে চলে যান এবং পরবর্তীতে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এরপর প্রভাব খাটিয়ে ধীরে ধীরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

প্রথমে ২০১০ সালে উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করেন সাউথইস্ট ব্যাংকে। তখন থেকে আজ অবধি দীর্ঘ ১১ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ব্যাংকের উপদেষ্টা পদে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একের পর এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র পরিচালকের পদ দখল করে আছেন। মূলত সাউথ ইস্ট ব্যাংকের উপদেষ্টা পদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পদ দখল করেন। যেটা স্পষ্টতই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম পরিপন্থী। তিনি যেসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন সেসব প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহীতা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও অবৈধভাবে উপদেষ্টা পদ দখল করে মাসের পর মাস বেতন নিচ্ছেন। আবার অবৈধভাবে ঋণ সুবিধা পাইয়ে দিয়ে ব্যাংকের টাকা লুটপাট করছেন হরহামেশা। সূত্রমেত জানা গেছে, জাকির আহমেদ খান ২০১০ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে টানা দশবার সাউথইস্ট ব্যাংকের উপদেষ্টা পদে নবায়ন পান। কেবল সাউথ ইস্ট ব্যাংকেই এগারো বছর ধরে উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি জামাত ঘেঁষা সাবেক এই আমলা। আর এই পদকে ব্যবহার করে দিনের পর দিন বেরকারি সেক্টরে করে গেছেন লাগামহীন লুটপাট। সাউথ ইস্ট ব্যাংকের উপদেষ্টা থাকার পরও অনেকবগুলো প্রতিষ্ঠানগুলোয় পরিচালক পদে নিয়োগ পান। যা ব্যাংকের স্বার্থ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম বিরোধী। এর মধ্যে রয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক গ্রিন ফাউন্ডেশন এর সদস্য, সাউথইস্ট ব্যাংক গ্রীন স্কুলের পরিচালক, সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেড এর সর্বেসর্বা, বে লিজিং এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এ স্বতন্ত্র পরিচালক, বিএলআই ক্যাপিটাল লিমিটেড এর পরিচালক, ন্যাশনাল লাইফ ইন্সু্যুরেন্স এর স্বতন্ত্র পরিচালক, ক্রাউন সিমেন্ট এর স্বতন্ত্র পরিচালক, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের স্বতন্ত্র পরিচালক, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর সদস্যসহ আরো কিছু পদ।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *