মানিকগঞ্জ আ’লীগের সম্মেলন: যোগ্য প্রার্থী দলের পরীক্ষিত নেতা আপেল

দীর্ঘ ৭ বছর পর আগামী ১১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে সরগরম আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠ। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ব্যানার, বিলবোর্ড ও বড় বড় তোরণে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামী নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এই সম্মেলন ও নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের এক ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সুমহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ইতিহাসের পরতে পরতে সে উড়িয়েছে জয়ের নিশান। এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের যে গৌরব আওয়ামী লীগ বহন করে তা আর কোনো দলের নেই। দল ক্ষমতায় এলেই সুবিধাবাদীরা উড়ে এসে জায়গা করে নেন পাদপ্রদীপে। আর অভিমানে ছিটকে পড়েন দুর্দিনের লড়াকু আদর্শিক কর্মীরা। মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগে যেন এমনটা না হয় কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে এমন প্রত্যাশা মানিকগঞ্জ আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

মানিকগঞ্জ জেলা আওয়মী লীগ সাংগঠনিকভাবে বরাবরই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে দলের ভেতর ঠাণ্ডা বিরোধ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এক সময় দলের দুর্দিনে রাজপথ কাঁপানো জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন পরীক্ষিত ও পোড় খাওয়া নেতাকর্মী কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম।

নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের দুঃসময়ে ও বিরোধী দল ক্ষমতায় থাকাকালীন যে সকল কর্মী নিজের জীবন বাজি রেখে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রেখেছেন তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করে এবার কমিটি যেন করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদ পেতে দৌঁড়ঝাপ করলেও প্রার্থীদের দেয়া বায়োডাটা থেকে দলের দুর্দিনে ছিলেন, কারা মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় সক্রিয় ছিলেন, পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলসহ সব কিছু বিবেচনা করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন না নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থী হওয়া নেতারা।

তৃণমূলের পক্ষ সাধারণ সম্পাদক পদে উঠে এসেছে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের দুর্দিনে, সাধারণ জনতার যেকোন দুর্যোগে পাশে থাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেলের নাম। মানিকগঞ্জ পৌরবাসীসহ জেলার তৃনমূল নেতাকর্মীরা মনে করে কোন জনপ্রতিনিধি না হয়েও সুলতানুল আজম খান যেভাবে বছর জুড়ে সাধারণ মানুষের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন তাতে জেলার সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া তাঁর অধিকার।

এক সময়ের বিএনপি জামাত ও স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের শক্তিশালী দূর্গ হিসেবে পরিচিত মানিকগঞ্জ জেলা কে আওয়ামী লীগের ঘাটিতে রুপান্তর করার কারিগর হিসেবে যে কয়জন আওয়ামী লীগ নেতা ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে আলহাজ্ব সুলতানুল আজম খান আপেল অন্যতম।

১৯৭৮-৮০ সাল পযন্ত মানিকগঞ্জ পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৮০-৮৬ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৯৮৭-৯১ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৯০ এর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনে সর্ব সম্মতিক্রমে মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, ১৯৯৪-২০০৩ সাল পর্যন্ত জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০০৪-২০১৫ সাল পর্যন্ত সময় কালে জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং সর্বশেষ ২০১৫ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা সুলতানুল আজম খান আপেল ছাত্র জীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পা রাখেন। শীতে শীত বস্ত্র, যে কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জেলায় সবচেয়ে আগে যে মানুষটিকে সাধারণের পাশে দেখা যায় তিনি সুলতানুল আজম খান আপেল।

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ২৫ বছর পরে ১৯৯৬ সনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করলেও মানিকগঞ্জের সংসদীয় আসন গুলোতে পরাজিত ই থেকে যায়। ব্যর্থতার এই গ্লানি কে সফলতায় রুপ দিতে সংগঠনের সিনিয়র নেতাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানিকগঞ্জে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে প্রতিহত করার লড়াইয়ে নিজের সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন সুলতানুল আজম খান আপেল।

জেলা আওয়ামীলীগের একাধিক নেতাকর্মীরা জানান, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অঘোষিত বিএনপি জামাতের ঘাটি হিসেবে পরিচিত মানিকগঞ্জে জেলা আওয়ামীলীগের একটি শক্তিশালী কমিটির বিকল্প নেই। সে হিসেবে আসন্ন মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সুলতানুল আজম খান আপেল যোগ্য একজন ব্যক্তি। তাকে মানিকগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক করা হলে দলীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে প্রাণের সঞ্চার হবে।

জানতে চাইলে সুলতানুল আজম খান আপেল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই আমার কাছে চূড়ান্ত। কাউন্সিলদের ভোট আর কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্তে আমাকে দায়িত্ব দিলে অবশ্যই পালন করব।’

Check Also

নয়াপল্টনেই ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ করবে বিএনপি: ফখরুল

বিএনপি নয়াপল্টনেই ১০ ডিসেম্বর গণসমাবেশ করবে- এমন অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *