91

বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউট প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে পদায়নে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে উচ্চ আদালতের রায় অমান্য করে জামাত-বিএনপিপন্থীদের পদায়ন করার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ‘বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউট জোরদারকরণ প্রকল্প’ তে কর্মরত কর্মকর্তাদের প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্তানান্তর হলে পরবর্তীতে নিয়মিতকরণে বোআইনিভাবে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ প্রণয়ন করলে তার বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশন দায়ের করেন ড. মোঃ আতাউর রহমান নামের এক কর্মকর্তা। উক্ত রিটি পিটিশনের রুল জারি এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় জারি হলেও হাইকোর্টের সেই রায়কে অমান্য করে বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ দেখিয়ে জামাত বিএনপি পন্থীদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করে পদায়ন করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে হাইকোর্ট প্রথমে যে রায় প্রদান করে সেই রায়ের বিরুদ্ধে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ বাদী হয়ে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে সিপি নং ৩৭৭৭/২০১৬ এবং কুয়াশা মাহমুদ (উক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা)  বাদী হয়ে সিপি নং ৩৮২/২০১৬ দায়ের করলে উপয় পক্ষের শুনানী শেষে আপীল বিভাগ ২০১৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে সামান্য পরিবর্তন আনেন।

তবে সেই রায়কে অমান্য করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ প্রণয়নে কিছুটা পরিবর্তন এনে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ প্রণয়ন করেন ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. আমজাদ হোসেন।

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে জ্যেষ্ঠতার যে তালিকা প্রকাশ করে সেখানে দেখা যায় হাইকোর্টের রায়কে আমলে না নিয়ে এ রায়কে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর মতামতে করা হয়েছে বলে দেখানো হয়। প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে যে ২৬ জন কর্মকর্তার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে দেখা যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের শ্যালিকা ড. সাঈদা খাতুন ও শ্যালিকার স্বামী ড. মোঃ শামসুর রহমান সবার উপরে রয়েছে তবে রায়ের আলোকে তালিকা প্রণয়ন করা হলে তাদের থাকার কথা নিচের দিকে। শুধু এই দুইজনকেই নয় ২৬ জন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার তালিকার মধ্যে  ২১ জনই বিএনপি জামাতপন্থী।

বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. আমজাদ হোসেন সাক্ষরিত ২০২১ সালের ১৪ ডিসেম্বর  বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গণের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ এবং প্রকাশ প্রসঙ্গে বলা হয়, সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ১০৬১/২০১৬ নং রীট মামলা ০৬/০৫/২০১৫ তারিখের প্রদত্ত রায়ের নির্দেশ, সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ কর্তৃক সিভিল পিটিশন ফল লীভ টু আপিল নং ৩৭৭৭/২০১৬ এ প্রদত্ত ২৬/০২/২০১৮ তারিখের রায়ের নির্দেশ, সিভিল রিভিউ পিটিশন নং ৫০৪/২০১৮, ৫১৬/২০১৮ ও ৫১৭/২০১৮ এ প্রদত্ত ১৪/১১/২০১৯ তারিখের আদেশ, আদালত কর্তৃক প্রদত্ত উপরোক্ত রায় ও আদেশের মর্মার্থ বিষয়ক বিজ্ঞ আইনজীবীর মতামত; বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট চাকুরী প্রবিধামালা-২০০৯ এর ধারা ১৪ (৫) মোতাবেক এবং রায় ও আদেশের আলোকে অত্র প্রতিষ্ঠানে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে কর্মরত বিজ্ঞানীগণের জ্যেষ্টতার তালিকা প্রকাশ করা হলো।

কথা হলে কয়েকজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাইকোর্ট এর রায় বোঝার জন্য যে কোন প্রতিষ্ঠান আইনজীবীর মতামত নিতেই পারে কিন্তু এক্ষেত্রে ইন্সটিটিউটটির মহাপরিচালক রায়কে অমান্য করে বিজ্ঞ আইনজীবীর মতামত দেখিয়ে জামাত বিএনপিপন্থীদের পদায়ন করেছেন।

রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোজাম্মেল হক বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের রায় যদি কোন প্রতিষ্ঠান পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করার জন্য বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে পারেন তবে কোনভাবেই হাইকোর্টের রায়কে অমান্য করার সুযোগ নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.